চাঁদপুর সদরসারা দেশহাইমচরহাজীগঞ্জ

আঘাত হানা শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ফণী, সারাদেশে নিহত ১৩, চাঁদপুরসহ দেশের কয়েক জেলায় শতাধীক ঘর বিধ্বস্ত

অনলাইন ডেস্ক:

আঘাত হানা শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ঝড়ের প্রভাবে বজ্রপাত ও ঝড়ের তাণ্ডবে ঘর চাপা পড়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত হয়েছে অন্তত ১৩ জন।বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি।

ইতোমধ্যে নোয়াখালীতে ঘর চাপা পড়ে ১ জন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন অন্তত ৩০। বরগুনার পাথরঘাটায় খলিফার হাটে ঘর চাপা পরে ২ জন নিহত হয়েছেন।বাগেরহাটের থানপুরে গাছের ডাল পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে ৬, নেত্রকোণায় ২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার রাত থেকেই ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাব পড়তে থাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে। পটুয়াখালী, বরগুনায় বাধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে অনেক গ্রাম।

এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা অঞ্চল এবং এদের পাশ্ববর্তী এলাকায় আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি।ঝড়ের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা আরো বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার ভোর রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ঝড়ে ঘরের মধ্যে চাপা পড়ে চর আমানউল্লাপুর ইউনিয়নে এক শিশু নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন।নিহত শিশুর নাম ইসমাইল হোসেন (২)। তার পিতার নাম আবদুর রহমান।এছাড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ১ জন ও নেত্রকোনায় ২ জন ও বাগেরহাটে ঘর চাপায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার ভোর রাতে চাঁদপুর সদর উপজেলার দূর্গম অঞ্চল রাজরাজেস্বর ইউনিয়ন, হাইমচর ও হাজীগঞ্জে অর্ধশতাধীক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও হাজীগঞ্জের দেশগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ঘরের টিন উড়ে গেছে। রাজরাজস্বর ইউনিয়নে ফায়ার সার্ভিস রাস্তায় উপড়ে পড়া গাছ সরানোর কাজে ব্যস্থ রয়েছে।

চাঁদপুর সদর ইউনিয়নের রাজরাজস্বর ইউনিয়নের রাস্তার উপর পড়ে থাকা সরাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, মিঠামইন ও ইটনা উপজেলায় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।নিহতরা হলেন- পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের কুর্শাকান্দা গ্রামের আয়াজ আলীর ছেলে আসাদ মিয়া (৫৫), একই উপজেলার চরফরাদি ইউনিয়নের আলগীরচর গ্রামের আবদুল হালিমের মেয়ে নুরুন্নাহার (৩০), একই এলাকার এন্তাজ আলীর ছেলে মুজিবুর (১৭), মিঠামইন উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের বিরামচর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে মহিউদ্দিন (২৩), একই উপজেলার কেওয়াজোড় ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের এবাদ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৭) ও ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কাটুইর গ্রামের রাখেশ দাসের ছেলে রুবেল দাস (২৬)।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ইতিমধ্যে দেশের দুই সমুদ্রবন্দর মোংলা ও পায়রা বন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় ১৯ জেলার সাড়ে ১২ লাখ লোক ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

Sharing is caring!

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
shares
Close