আন্তর্জাতিক

মসজিদে হামলার আতংকে শ্রীলংকান মুসলিমরা

অনলাইন ডেস্ক:

গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার পর মসজিদেও বোমা হামলার ঘটনায় শ্রীলংকান মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝেও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার রাতে দেশটির পুত্তালুম জেলায় একটি মসজিদে পেট্রলবোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া বান্দারাগামা এলাকায় মুসলিম মালিকানাধীন অন্তত দুটি দোকান ভাঙচুরের পর আগুন দেয়া হয়।

এসব হামলার পর দেশটির মুসলিমদের মধ্যেও আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

ভয়াবহ এ সিরিজ হামলার নিন্দা জানিয়েছে লংকান মুসলমানদের প্রভাবশালী সংগঠন অল সিলন জমিয়াতুল ওলামা (এসিজেইউ)।

এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মুফতি রিজভী বলেন, ‘আমাদের খ্রিস্টান ভাই-বোনেরা ইস্টার সানডেতে প্রার্থনা করছিলেন। সেখানে ঘৃণ্য হামলা করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’

একইসঙ্গে মুফতি রিজভী সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে ভয়াবহ ওই হামলার পর রোববার মুফতি রিজভী শ্রীলংকার আর্চ বিশপ ম্যালকম কার্ডিনাল রঞ্জিতের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। এ সময় কয়েকজন মুসলিম মন্ত্রী ও এমপি তার সঙ্গে ছিলেন।

মুফতি রিজভী বলেন, আমাদের খ্রিস্টান ভাইবোনদের ওপর নৃশংস ও ন্যক্কারজনক এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমরাও তাদের দুঃখে সমব্যাথি। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষও এ কাজ করতে পারে না।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলার জেরে শ্রীলংকায় নতুন করে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক একটি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে।

রোববার ইস্টার সানডেতে শ্রীলংকার তিনটি গির্জা, তিনটি হোটেলসহ অন্তত আটটি স্থানে পরপর বোমা হামলা হয়। হামলায় ২৯০ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি নাগরিক। আহত পাঁচ শতাধিক।

গতকাল ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল।

এদিকে হামলার ঘটনায় কলম্বোর একটি বাড়িতে পুলিশের অভিযানে সাত ব্যক্তিকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে আটকের খবর জানানো হয়েছে।

Sharing is caring!

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
shares
Close