চাঁদপুর সদর

চাঁদপুরে ১১ হাজার ভোল্ট ধারণকৃত বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন

শরীফুল ইসলাম:
চাঁদপুরে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার ধারণকৃত খুঁটিসহ গড়ে উঠছে একটি বহুতল ভবন। শহরের প্রাণকেন্দ্র কালীবাড়ি শপথ চত্ত্বর এলাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে এই ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে করে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে।
দুই ফ্ল্যাট বিশিষ্ট নির্মিতব্য ৬তলা ভবনটির মালিকনায় রয়েছেন এম এ হাসান লিটন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নামের দুই ব্যক্তি। কালীবাড়ি শপথ চত্ত্বর এলাকায় অবস্থিত বাইতুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদের উত্তর পাশে ঝুঁকি নিয়ে এই ভবন নির্মান করা হচ্ছে। ইতমধ্যে দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করা হয়েছে।
চাঁদপুর পৌরসভার নির্ধারিত ভবন নীতিমালা অনুসরণ না করেই গড়ে উঠছে ছয়তলা ফাউন্ডেশনের বহুতল ভবনটি। নিয়ম অনুযায়ী ভবনটি নির্মাণে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তিন ফুট দূরত্ব রাখার কথা থাকলেও মানা হয়নি তা। বরং অত্যন্ত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ১১ হাজার ভোল্ট পরিবাহী বৈদ্যুতিক তার ধারণকারী খুঁটিসহ নির্মিত হচ্ছে এ ভবন।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম ইকবাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ভবন মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। এভাবে বিদ্যুতের খুটিসহ ভবন নির্মান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অন্ততপক্ষে তিন মিটার দূরত্ব রেখে ভবনটি নির্মান করা উচিত। নয়তো যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
চাঁদপুর পৌরসভার নক্সাকার জাহিদুল ইসলাম বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি ঘেঁষে শহরের প্রাণকেন্দ্রে যে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে তা পৌরসভার নির্ধারিত ড্রয়িং অনুসরণ করা হয়নি। যতটুকু জায়গা ছেড়ে ভবন তৈরি করা প্রয়োজন ছিল তা করা হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় হবে বলে জানান তিনি।
অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন ভবনের একাংশের মালিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী ভবনটি তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন পিলারটি বহু আগে সরানোর কথা থাকলেও এখনো তা সরানো হয়নি। তাই আপাৎত নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে। অতিদ্রুত বিদ্যুতের পিলারটি সরানো হবে বলে জানান তিনি।
সচেতন নাগরিক কমিটির চাঁদপুর জেলার সভাপতি মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে এ ধরনের ভবন নির্মিত হচ্ছে। এরকম একটি বৈদ্যুতিক পিলারসহ বিল্ডিং তৈরি করা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভবন নির্মানকারী মালিকরা নিয়ম মানছে না একই সাথে যাদের তদারকি করা কথা তারাও ঠিকমত কাজ করছে না। যা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী যে কোন সময় রাজধানী ঢাকার ‘চুরিহাট্টা’ ও ‘বনানী’ অগ্নিকান্ডের মত ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এই ভবন।
চাঁদপুর উত্তর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, বিল্ডিং কোড মেনে এ ভবনটি তৈরি করা হয়নি। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুতের পিলার রয়েছে ভবসের সাথে। এ ব্যপারে ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।

Sharing is caring!

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
shares
Close