অন্যান্য খবর ফরিদগঞ্জ শিক্ষা সারা দেশ

মনতলা উ’বির পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ !

নিজস্ব প্রতিনিধি :
ফরিদগঞ্জে মনতলা হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা নিয়ে হট্টগোল দেখা দেয়। এতে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে একপক্ষ দাবি করলেও অন্যপক্ষ এমন কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানান। তবে প্রথম সভায় বাধা দেয়ার অভিযোগ করেন নব-নির্বাচিত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার।

জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর ২০১৮ বিদ্যালয়ের নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচনে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতি হিসেবে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫নং পূর্ব গুপ্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদারের নাম প্রস্তাব করা হয়। ওই সভায় পরিচালনা পর্ষদের ১০জন সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ৯জনের সর্বসস্মতিক্রমে মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদারকে সভাপতি নির্বাচিত করে রেজুলেশন করা হয়।

এরপর বিদ্যালয় হতে গত ৫ নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লায় প্রেরণ করা হলে, ১৮ ডিসেম্বর ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন এবং ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রি. প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষাবোর্ড। যার স্মারক নং কমিটি/৯৮/চাঁদ/৬৭০।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের মধ্যে একপক্ষ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যের পক্ষের লোক দেখতে চায়। অপর পক্ষ নির্বাচিত নব-গঠিত কমিটি থাকার পক্ষে রয়েছেন। শুক্রবার নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে দু’পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানান।

এ দিকে বর্তমান কমিটির পক্ষের লোকজন জানান, গত ৯ ডিসেম্বর পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ওই কমিটি মেয়াদকালীন সময়ে বিধিমালা অনুযায়ী নতুন কমিটি করা হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর শিক্ষাবোর্ড নবগঠিত কমিটিকে অনুমোদন দেয়। বিধিমালা অনুযায়ী অনুমোদনের একমাসের মধ্যেই প্রথম সভা করতে হয়। আজ প্রথম সভায় সভাপতি বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসলে কয়েকজন যুবক উশৃঙ্খল আচরন করে। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয় বলে তারা বাদী করেন।

অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে অপর পক্ষের লোকজন জানান, বিদ্যালয়ের যদি কমিটি থাকতো, তাহলে বই উৎসবে কোথায় ছিলেন তারা। সারাদেশে উৎসবমূখর ও আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়েছে। যা আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম সাফল্য। সুতরাং এমন কমিটির লোকজন আমরা চাইনা। সভাপতিসহ যে কমিটি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে যে কাজ করবো, আমরা তাকে চাই।

এ ঘটনায় মানুরি ও ঘনিয়ার বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, আমাদের এলাকা থেকে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ওই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। যদি এমন পরিস্থিতি বিরাজমান থাকে, তাহলে আমাদের সন্তানদের ওই বিদ্যালয়ে পাঠাবোনা।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য শওকত আলী জানান, শুক্রবার সকালে নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় আমরা উপস্থিত হই এবং রেজুলেশনে স্বাক্ষর করি। এরপর বিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে সভাপতি প্রবেশ করলে বেশ কয়েকজন যুবক উশৃঙ্খল আচরণ করে। তারা নব-নির্বাচিত এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটির দাবি করে। এরপরেই ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন পাটওয়ারী জানান, আমার তিন ছেলেসহ বেশ কয়েকজনকে তারা মারধর করে। বর্তমানে তার ছেলে রাশেদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

মারামারি ঘটনা অস্বীকার করে জানিবুল হক জুয়েল জানান, এলাকা ও বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সাথে পরামর্শ করে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি (পরিচালনা পর্ষদ) গঠনের আহবান জানিয়েছি আমরা। এতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার জানান, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ম্যানেজিং কমিটি করা হয়েছে। প্রথম সভা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আজ (শুক্রবার) সকালে আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে বেশ কয়েকজন যুবক উশৃঙ্খল আচরন করে। তারা রাশেদসহ কয়েকজন মারধর করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির প্রবিধানমালা- ২০০৯ অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রীকভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) নবগঠিত কমিটির প্রথম সভা ছিলো। সভায় কমিটির অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত হলে সভাপতি উপস্থিত হতে পারেন নি।

তিনি বলেন, সভাপতির সাথে ফোনে কথা বলেছি। সভাপতি জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আসলে তাকে বেশ কয়েকজন যুবক প্রবেশে বাধা দেন। এ নিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে, তিনি শান্তির লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে প্রবেশ না করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যার ফলে সভায় উপস্থিত হতে পারেন নি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ্ আলী রেজা আশ্রাফী জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছি। আগামি ১৯ জানুয়ারী পর্যন্ত নবগঠিত কমিটির প্রথম সভা করার সময় রয়েছে। আমরা বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ফরিদগঞ্জ থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হুসেন জানান, আমি দায়িত্বরত অবস্থায় ওই এলাকায় (মনতলা) ছিলাম। মারামারির খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে আসি। কিন্তু এমন কোন পরিস্থিতি বা আলামত আমি দেখিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি। তারও কোন অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, যদি কারো অভিযোগ থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares