অনলাইন ডেস্ক:

একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে ৩০ জানুয়ারি। ওই দিন বিকাল ৩টায় যাত্রা শুরু করবে নতুন এই সংসদ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বুধবার জাতীয় সংসদের এই অধিবেশন আহ্বান করেন বলে সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে।

২৮ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ। নিয়ম অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। পরে অধিবেশনজুড়ে ওই ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেবেন সংসদ সদস্যরা।

অধিবেশন শুরুর দিন প্রথমেই হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আবারও একই পদে রাখার বিষয়ে রংপুরে নির্বাচনী জনসভায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ডেপুটি স্পিকার কে হবেন, সে বিষয়ে এখনও ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন কিছু সময় মুলতবি রাখা হবে। এ সময় সংসদে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ নেবেন। পরে নবনির্বাচিত স্পিকারের সভাপতিত্বে শুরু হবে সংসদের বৈঠক। বৈঠক শুরুর পর নতুন স্পিকার সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। একাদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্য আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ অন্যদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব তোলা হবে। বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য মারা গেলে শোক প্রস্তাবের আলোচনা শেষে অধিবেশন মুলতবির রেওয়াজ আছে।

তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি রাখা হবে। এরপর আবার সংসদের বৈঠক শুরু হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেয়ার জন্য আহ্বান জানাবেন। রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর অধিবেশন মুলতবি করা হবে। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ। ভোট হওয়া ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পেয়েছে দলটি, জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন। অপরদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে মাত্র সাতটি আসন পেয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটের শরিকদের নির্বাচিতরা ৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোমবার শপথ নিয়েছেন নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। অন্যদিকে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন না বলে জানানো হয়েছে। দশম জাতীয় সংসদের মতো এবারও সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি।

এবারের নির্বাচনে ২২টি আসনে জয়ী হয়েছে দলটি। তবে গত সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের চেয়ারে বসবেন দলটির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়িত্বে থাকবেন তার ছোট ভাই জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আর বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপের দায়িত্ব পালন করবেন দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। দশম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভায়ও ছিল জাতীয় পার্টি। তবে এবার জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের অন্য শরিকদের কেউই এখন পর্যন্ত সরকারে নেই।