নিজস্ব প্রতিনিধি॥
চাঁদপুর জেলাধীন মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা বেষ্টিত ধনাগোদা নদী এখন মৃত প্রায়। কালীর বাজার থেকে চরমাছুয়া পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার নদী কচুরিপানার ভাগারে পরিণত হয়েছে। ফলে মতলব থেকে ঢাকা এবং মতলব থেকে নারায়নগঞ্জ লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধনাগোদা নদীতে দীর্ঘদিন ড্রেজিং না করায় কারনে এবং ধনাগোদা নদীর গালিমখাঁ, দূর্গাপুর, শিবপুর, নায়েরগাঁ, টরকী’সহ অন্তত ১০টি পয়েন্টে নদীর মাঝামাঝি চর ও ডুবোচর পড়ায় নাব্যতা সংকটে পড়েছে ন। চর পড়ার কারনে অবাদে কচুরিপানা জন্ম নিচ্ছে। নদী খনন নাপ করা এবং অবাদে অবৈধভাবে নদীর মাঝামাঝি মাছ ধরার জন্য জাঁগ দেয়ার কারনে এসব কচুরিপানা জমাট বেঁধে থাকছে। এতে করে এ রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলে মারাত্বক সমস্যা দেখা দিচেছ।
এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষ একেবারেই উদাসিন। ফলে যেকোন মূহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে মতলব-ঢাকা এবং মতলব-নারায়নগঞ্জ নৌ-রুট। এছাড়া স্থানীয় মালবাহী ট্রলার ও নৌকা চলাচল একেবারেই বন্ধ। এমনিতেই গত ৫ বছরে লঞ্চ চলাচল একেবারেই কমে গেছে। হাতে গোনা যা কয়েকটি লঞ্চ চলে, কচুরিপানার কারনে অধিক সময় লাগছে। ফলে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় লাগার কারনে লঞ্চে চলাচল ভুলে যেতে বসেছে। যার কারনে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে লঞ্চ মালিকদের। লঞ্চ শ্রমিকরা যে পরিমান হাজিরা পাচেছ,তাতে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন চালাতে অনেক কস্ট হয় বলে তারা জানান।
লঞ্চ মালিকরা জানান, কচুরিপানার কারনে ১ ঘন্টার রাস্তা পাড়ি দিতে আমাদের ৩ ঘন্টা লাগছে। যার কারনে জ¦ালানী খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সময় বেশি লাগার কারনে যাত্রীও কমে গেছে। যাত্রী এমনিতেই কম। তার উপর কচুরিপানা এখন ‘মরার উপরে খারার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধনাগোদা নদীটি ড্রেজিং না করলে অচিরেই এই নৌ-রুট বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা এরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হব আমরা।
এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, ধনাগোদা নদীর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করবো। এবং তা সমাধানে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ বলেন, নদীতে চর পড়ার কারণে অনেক সমস্যা হচ্ছে। বর্ষার সময় পানি ঠিকমত নিষ্কাশন হতে পারে না। লঞ্চ চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ড্রেজিং না করার কারনে অনেক জায়গায় চর ও ডুবো চর পড়েছে। তিনি আরো বলেন, নদী খনন ও রক্ষণাবেক্ষন উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব না। তার পরেও আমার ব্যক্তিবগ উদ্যোগে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছে নদী খননের জন্য আবেদন করবো।

Share Button