নিজস্ব প্রতিনিধি॥
হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে চাঁদপুর-৫ আসন গঠিত। এ চাঁদপুর জেলার মধ্যে এ দু’উপজেলার ব্যাপক গুরত্ব রয়েছে।

বিশেষ করে হাজীগঞ্জ উপজেলা জেলার মধ্যে অন্যতম ব্যবসায়ীক প্রাণকেন্দ্র। শুধু জেলা নয় পাশবর্তী লক্ষীপুর, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষও হাজীগঞ্জ বাজার থেকে মালা-মাল ও ব্যাংকিং সুবিধা নিয়ে থাকে। আহমদ আলী রহ. প্রতিষ্ঠিত হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের কারণে এ উপমহাদেশে হাজীগঞ্জের সু-পরিচিতি রয়েছে। এছাড়াও এ উপজেলার আলীগঞ্জে রয়েছে হযরত মাদ্দা খাঁ রহ. এর মাজার।

হাজীগঞ্জ উপজেলার আয়তন ১৮৯বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৩২৭৩৬৭জন। ইউনিয়ন ১২টি ও পৌরসভা ১টি। ভোটার সংখ্যা ২৪২৮২৮জন। পুরুষ ভোটার ১২৩৫৪৫জন এবং মহিলা ভোটার ১১৯২৮৩জন।

অপর দিকে শাহরাস্তি উপজেলায় রয়েছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের বৃহত্তর তীর্থস্থান মেহের কালীবাড়ী।

শাহরাস্তি উপজেলার আয়তন ১৫৪.৩১ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ২২৬৭৮৬জন। ইউনিয়ন ১০টি ও পৌরসভা ১টি। ভোটার সংখ্যা ১৭০৯৫৩জন। পুরুষ ভোটার ৮৪৭০৭জন এবং মহিলা ভোটার ৮৬২৪৬জন।

এ আসনে ১৯৭৩ সালে এমপি ছিলেন আওয়ামীলীগের, ১৯৭৯ সালে বিএনপির, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি।
১৯৯১ সালে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির এম এ মতিন প্রাপ্ত ভোট ৩৫ হাজার ৯৪৪ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগের এম এ ছাত্তার ৩৪ হাজার ৬৮২ ভোট (১৯৯৬ ফেব্রুয়ারী) বিএনপি।

১৯৯৬ সালে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম প্রাপ্ত ভোট ৬২ হাজার ৩০৯, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির এম এ মতিন ৬১ হাজার ৮শ ৯৫।

২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির এম এ মতিন প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১০ হাজার ৭শ ৯২ ভোট নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগের মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম প্রাপ্ত ভোট ৯৪ হাজার ৫’শ ৩১।

২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হন মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯৭ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির ইঞ্জি. মমিনুল হক প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৮০ ভোট এবং ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির সাবেক এমপি এম এ মতিন নিজের অসুস্থ্য দেখিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরগ্রহণ করেন। সে সময় বিএনপির মনোনয়ন দেয়া হয় বিএনপি নেতা ইঞ্জি. মমিনুল হককে।

দীর্ঘ সময় তিনি হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমায় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা করে আসছেন। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর চাঁদপুর জেলায় বিএনপিকে সু-সংগঠিত করেন। চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপির তৃণমুল বলতে বুঝায় ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক। সম্প্রতি সময়ে যদি এম এ মতিন মাঠ গুছানোর জন্য কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু তা হয়েও হয়ে উঠেনি। জেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি সাবেক এমপি এ মতিনের পক্ষে দিয়েছিল। পরবর্তী যুবদলের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়।

নতুন করে হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপিকে আহবায়ক কমিটি থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। মাত্র আড়াই মাসের মাথায় সে কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ইঞ্জি. মমিনুল হক সমর্থিত নেতাদের দিয়ে হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌরসভার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট ৪টি আহবায়ক কমিটি অনুমোদন প্রদান করেন।

গুঞ্জন রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে জেলা বএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি. মমিনুল হককে মিলিয়ে দেন। এতে উভয় নেতার দূরত্ব কমে যায়। এবং এম এ মতিন সমর্থিতদের কমিটি ভেঙ্গে ইঞ্জি. মমিনুল হকের পক্ষে কমিটি প্রদান করা হয়।

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি এম এ মতিন ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, ২০০৮ সালে বিএনপির টিকিটে নির্বাচনকারী ইঞ্জি. মমিনুল হকসহ দু’জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কে বিএনপির প্রার্থী থাকছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রিয় মূখ মমিন নাকি প্রবীণ বিএনপি নেতা এম এ মতিন।

Share Button