অনলাইন ডেস্ক:

দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ। কথাটা সাকিব আল হাসান জ্বালাময়ী পঙ্‌ক্তিতে উচ্চারণ করেননি। তবে সুরটা অভিন্ন ছিল। যেভাবে হেরেছি, সেভাবেই হারাতে হবে, কথাটার মধ্যে বাড়তি বারুদ ঠাসা ছিলই। এ কারণেই কি না, নিপাট ভালো মানুষটি বলে পরিচিতি যার, মৃদুভাষী মাহমুদউল্লাহও যখন প্রসঙ্গটা বলছিলেন, এক্স-রে দিয়ে দেখলে সেই কথার তরঙ্গে তেজ-সক্রিয় কিছু একটার দেখা মিললেও মিলে যেতে পারত।

এই টেস্টের ফল এখনই বলে দেওয়া বোকামি। আর ক্রিকেটও অনিশ্চয়তার সূত্র মেনে মাঝেমধ্যে এমন সব কাণ্ড করে বসে, চোখ কচলাতে হয়। তবু আজ মাহমুদউল্লাহর আগে ক্যারিবীয় প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা ওয়ারিকানকে দেখেই মনে হচ্ছিল, মানসিকভাবে বাংলাদেশ ২-০ করেই ফেলেছে। জব্বর জবাব দেওয়া গেছে মাত্র ক মাস আগে ক্যারিবীয় সফরের।

সেই সফরে বাংলাদেশ রঙিন পোশাকে উজ্জ্বল ছিল, কিন্তু সাদা পোশাকে ছিল সাদামাটা। প্রথম টেস্টটা বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ২১৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। দ্বিতীয় টেস্টের পরাজয়টাও এসেছিল ১৬৬ রানে। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ কবার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ক্যারিবীয় পেস-বুলডোজার। পেসের জবাব স্পিনে দিয়ে বাংলাদেশ প্রথম টেস্টে জিতেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টেও ক্যারিবীয়দের কাঁধে রানের হিমালয় চাপিয়ে দিয়ে আজ ২৯ রানে তুলে নিয়েছে ৫ উইকেট।

প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে কম রানে প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলার রেকর্ডটা আজ আবার নতুন করে লিখতে হলো। এর মধ্যে আজ তো বাংলাদেশ প্রথম পাঁচের সবাইকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠিয়েছে। ১২৮ বছর পর টেস্ট ক্রিকেট দেখল এমন ঘটনা। এর আগে ব্যাটিংয়ে ১১ ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছে। ২৩৩১ টেস্টে এমন ঘটনা এ নিয়ে ঘটল মাত্র ১৪ বার।

মাহমুদউল্লাহ সেঞ্চুরি পেয়েছেন। আট বছরের অপেক্ষার পর আসা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পর তৃতীয় সেঞ্চুরিতে মাহমুদউল্লাহ সময় নিলেন মাত্র কদিন। ব্যাটে, বলে কি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বাংলাদেশ হিসেব করে করে জবাব দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এটাকে পাল্টা প্রতিশোধ, পাল্টা জবাব বলতেই পারেন।

মানুষটা মাহমুদউল্লাহ বলেই তাঁর অভিধানে না-থাকা ‘প্রতিশোধ’ শব্দটা উচ্চারিত হলো না। তবে এটা বললেন, ‘যখন টেস্ট সিরিজটা শুরু হয়, তখন সাকিব একটা কথা বলেছিল: “আমার মনে হয় এটা আমাদের মনে রাখা উচিত ওখানে আমরা কীভাবে হেরেছিলাম। ওই হার দুটো মনে রাখলে, এখানে আমরা উজ্জীবিত হতে পারব।” এই জিনিসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মনে হয় সাকিবের এই বক্তব্য সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। হারটা যদি আপনি সহজেই ভুলে যান তো আপনি কখনো শিখতে পারবেন না। সাকিবের এই কথাটা ভালো একটা বার্তা ছিল। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় এই কথাগুলো দলকে দারুণ উজ্জীবিত করেছে।’

সেই উজ্জীবনী মন্ত্রে দীক্ষিত বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জিতেছে আড়াই দিনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ম্যাচের দুই দিন যেতে না যেতেই ভাবছে, চার দিনে ম্যাচটা যাবে তো! এই ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক, মানসিক লড়াইয়ে বাংলাদেশ এখনই বিজয়ী, তা বলাই যায়। তবে ম্যাচের স্কোরকার্ডে যে শেষ পর্যন্ত ফলাফলটাই লেখা থাকে, সেটাও মাহমুদউল্লাহরা ভুলে যাচ্ছেন না।

Share Button