আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে সামরিক আইনজারী, সর্বত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউক্রেনও। সামরিক আইন (মার্শাল ল’) জারি করা সীমান্ত এলাকাগুলোতে পরিখা খননে ব্যস্ত সময় পার করছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে মজুদ করছে ট্যাংক, গোলা-বারুদ, রেশনসহ যুদ্ধের অন্যান্য রসদ।

রুশ আগ্রাসনের আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী ১০ শহরে বুধবার সামরিক আইন বলবৎ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে কিয়েভের এ রণপ্রস্তুতি। তবে নিজের সেনাবাহিনীর ওপর খুব একটা ভরসা করতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো। রাশিয়াকে উপযুক্ত জবাব দিতে আজভ সাগরে শিগগরিই যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে বলছেন ন্যাটোকে।বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এ জোটের কামান্ডার জেন্স স্টলটেনবার্গের কাছে এ অনুরোধ জানান তিনি।

এরপরই আজভ সাগরে ইউক্রেনের দুটো সমুদ্রবন্দর বন্ধ করে দেয় রাশিয়া। কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। পোরোশেঙ্কোর সামরিক সহায়তার অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। তিনি বলেছেন, ‘সামরিক উপায়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব। সংলাপই সমাধানের একমাত্র উপায়।’ খবর এএফপির।

ইউক্রেনের অবকাঠামো মন্ত্রী ভলোদিমির ওমেলায়ান বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, মোট ৩৫টি জাহাজকে স্বাভাবিক চলাচলে বাধা দেয়া হয়েছে। আর আজভ সাগরে রাশিয়ার বন্দর অভিমুখী জাহাজগুলোই কেবল প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে।

ইউক্রেনের বারদিয়ানস্ক এবং মারিওপোল বন্দরে রাশিয়ার এ অবরোধের কারণে ১৮টি জাহাজ সাগরে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে বলে জানিয়েছেন ওমেলায়ান।

রোববার কৃষ্ণ সাগরকে আজভ সাগরের সঙ্গে সংযোগকারী কার্চ প্রণালীতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের তিনটি জাহাজ জব্দ ও ২৪ নাবিককে আটক করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এখন দ্রুতই যুদ্ধপরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। ওই ঘটনার পরপরই ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে রাশিয়া।

দেশটির সীমান্ত ঘেঁষে মোতায়েনও করেছে ৫০০টি যুদ্ধবিমান ও ৩৪০টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার। বৃদ্ধি করছে ট্যাংকের সংখ্যা। বাড়াচ্ছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র।

বুধবার ৩০ দিনের মার্শাল ল’ কার্যকরের পর থেকেই সীমান্ত এলাকাগুলোতে যুদ্ধের রসদ, গোলা-বারুদ মজুদ ও পরিখা খনন শুরু করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। আজভ সাগর থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে পরিখা খুঁড়ছে সেনারা। খবর পেয়ে সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে গত তিনদিন ধরেই দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আসছে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

ওদিকে আজভ সাগরে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার মোকাবেলায় ন্যাটোর সাহায্য চেয়েছেন পোরোশেঙ্কো। জার্মানির বিল্ড ডেইলি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জার্মানি আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একটি।

ইউক্রেনকে সহায়তা ও নিরাপত্তা দিতে ন্যাটোর দেশগুলো আজভ সাগরে তাদের যুদ্ধজাহাজগুলোর পুনর্বিন্যাসে প্রস্তুত বলেই আশা করছি আমরা।’ রাশিয়ার ‘আগ্রাসী নীতি’ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইউক্রেন আগ্রাসনের পরিণতি সম্পর্কে মস্কোকে সতর্ক করলেও পোরেশেঙ্কোর এ অনুরোধ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ন্যাটো। সদস্য না হয়েও ন্যাটোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইউক্রেন।

পোরেশেঙ্কোর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করে। ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের পর আজভ সাগর ঘিরে পশ্চিমাদের সঙ্গেও মস্কোর বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

পূর্বাঞ্চলীয় ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ক্রেমলিন সাহায্য করছে বলেও অভিযোগ আছে কিয়েভের। রুশপন্থী ওই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেন ভূখণ্ডের একটি বড় অংশকে কিয়েভের শাসন থেকে মুক্ত করতে চায়। এর পাল্টায় রাশিয়াও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্রিমিয়াতে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা বসানোর কথা জানিয়েছে।

Sharing is caring!

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares