নিজস্ব প্রতিনিধি:
হাজীগঞ্জে বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সব কিছু হারিয়ে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণের কিস্তির টাকা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম কালচোঁ গ্রামের পূর্ব পাড়া (নেছারাবাদ ফাজিল মাদ্রাসার সাথে) বেপারী বাড়িতে বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকান্ডে ১২টি বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরসহ ১৮টি ঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয়। এতে ঘর এবং ঘরে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক সামগ্রী, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, পোশাক, গৃহপালিত পশু, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বাবুলের স্ত্রী শাহিদা বেগম ব্রাক, সাজেদা ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ ব্যাংক ও সিদীপ, হান্নানের স্ত্রী রুমা বেগম সিডিএস ও ব্রাক, সেলিমের স্ত্রী সেলিনা বেগম সাজেদা ফাউন্ডেশন, চান্দ্রা সমিতি, সোপিরেট ও ব্রাক, মনিরের স্ত্রী ইতি বেগম জাগরন এনজিও, নাজির হোসেনের স্ত্রী তানিয়া বেগম আশা এনজিও, আবুল হোসেনের স্ত্রী লুৎফা বেগম কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে।
উল্লেখিত এনজিও এবং ব্যাংক থেকে এ সব ঋণের বিপরীতে কিস্তির টাকা নিয়ে যথা সময়ে পরিশোধ করার যে সক্ষমতা তাদের ছিলো, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তারা চরম ক্ষতিগ্রস্ততার মধ্যে রয়েছে। ফলে এই দূর্দিনে তাদের এই কিস্তির টাকা পরিশোধ করার কোন ক্ষমতা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতি সহানুভূতির হাত প্রসারিত করে ঋণের টাকা মওকুফ করে দেয়, তাহলে ভুক্তভোগি পরিবারগুলো ঋণের বোঝা থেকে বেঁচে যাবে।
ঋণ নেয়া পরিবারগুলো জানায়, এনজিও এবং ব্যাংক থেকে তারা ঋণ গ্রহণ করে যে বসতঘর নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ক্রয় করেছেন, তা অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। যদি প্রশাসন ও সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিগণ এগিয়ে আসেন, তাহলে নি:স্ব এ পরিবারগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

Share Button