অনলাইন ডেস্ক:

ধর্ম অবমাননার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসিয়া বিবিকে খালাস দেওয়ার পর উদ্ভূত বিক্ষোভমুখর পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুক্রবার (২ নভেম্বর) থেকে পাকিস্তান সরকার দেশটির মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রেখেছে। তৃতীয় দিনের মতো ইসলামপন্থীদের রাজনৈতিক দলগুলোর বিক্ষোভ অব্যাহত থাকার প্রেক্ষিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চলছে রাস্তা অবরোধ। শুক্রবার মওলানা সামি উল হক নামের একজন ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদের হত্যাকাণ্ডে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি গোয়েন্দা সংস্থা আলোচনার চেষ্টা করছে, যদিও সেখান থেকে ফলপ্রসূ কোনও সমাধান এখনও আসেনি।

তিন সন্তানের জননী আসিয়া বিবি (৪৭) ২০০৯ সালের এক গরমের দিনে খামারে কাজ করার সময় মুসলমান শ্রমিকদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে পানি খেয়েছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত মুসলমান সহকর্মীরা দাবি করেছিল, মুসলমান না হয়ে তাদের গ্লাসে আসিয়া পানি খাওয়ায় গ্লাসটি ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে গেছে। তারা আসিয়াকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চাপ দেয়। আসিয়া তা প্রত্যাখ্যান করলে মুসলমান সহকর্মীদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে মুসলমান শ্রমিকরা দাবি করে, আসিয়া বিবি ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। আসিয়া বিবি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হওয়ার কথা স্বীকার করলেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দেশটির প্রথম নারী হিসেবে ২০১০ সালে পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনে আসিয়া বিবিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। এমনকি পাকিস্তানেও তার পক্ষে দাঁড়ান অনেকে। তবে এদের মধ্যে অন্তত দুইজনকে তাদের অবস্থানের কারণে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। আসিয়া বিবির পক্ষে কথা বলায় পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরকে তারই দেহরক্ষী হত্যা করে। আর সেই দেহরক্ষীকে পাকিস্তানে বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে তেহরিক-ই-লাব্বাইক। গত ৩১ অক্টোবর আসিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

রায়ের পরপর বিক্ষোভ শুরু করে তেহরিক-ই-লাব্বাইক (টিএলপি)। তারা করাচি ও লাহোরের গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো রাস্তা অবরোধ করে। ইসলামাবাদেও একই অবস্থা। টিএলপির সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আফজাল কাদরি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসার ও রায় বাতিল করা বেঞ্চের অপর দুই বিচারককে হত্যার আহ্বান জানিয়েছে। তার ভাষ্য, ‘তাদের তিনজনকেই হত্যা করা উচিত। হয় নিরাপত্তা রক্ষী, না হয় গাড়ির চালক আর না হয় বাবুর্চির উচিত তাদেরকে হত্যা করা।’ মুহাম্মদ আফজাল কাদরি পাকিস্তান সরকার ও সেনাপ্রধান জেনারেল কামার বাজওয়াকে উৎখাতেরও আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুক্রবার মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। রাজধানী ইসলামাবাদে টেলিফোন নেটওয়ার্কও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারের আলোচনা সম্পর্কে টিএলপির নেতা খাদিম হুসেইন রিজভি বলেছে, আলোচনা থেকে কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়নি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বিষয়টির ‘শান্তিপূর্ণ’ সমাধানের আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আলোচনার মধ্য দিয়ে বিষয়টির সমাধান হওয়াটাই কাম্য।’

Share Button