অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের রিভারসাইড পার্কে বুধবার হাঁটাহাঁটি করছিলেন এক ব্যক্তি। তখন কিছু একটা নড়তে দেখে তিনি পুলিশকে খবর দেন। সেখানে ৬৮তম সড়কের পাশে নদীতে দুই তরুণীর লাশ ভেসে আছে। তাদের কোমর ও পা একসঙ্গে টেপ দিয়ে বাঁধা।

পুলিশ জানিয়েছে, খুব বেশি আগে এ দুই লাশ নদীতে ছিল না।

তুরস্কের ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি খুনের রেশ না কাটতেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সৌদি নাগরিক দুই বোনের লাশ পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় ধাঁধায় পড়েছে পুলিশ।

বিবিসি জানায়, গত সপ্তাহে শহরের হাডসন নদী থেকে টেপ দিয়ে বাঁধা দুই বোনের লাশ উদ্ধার করা হয়। একজনের নাম তালা ফারিয়া (১৬), অন্যজন রোতানা ফারিয়া (২২)।

পুলিশ বলছে, এ দুই বোন সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করছিলেন। ২০১৫ সালে তারা তাদের মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর ভার্জিনিয়ায় থাকতেন।

২০১৭ সালে একবার বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার পর গত ২৪ আগস্ট দুই বোন ফের নিখোঁজ হন।

তাদের লাশ উদ্ধারের পর সপ্তাহ গড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ মৃত্যু রহস্যের কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না মার্কিন পুলিশ।

কীভাবে দুই বোনের মৃত্যু হল তা এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। বাড়ি থেকে ২৫০ মাইল দূরে নদীতীরে তাদের লাশ কীভাবে এলো তাও পুলিশের কাছে অস্পষ্ট।

নিউইয়র্ক পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে এপি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দুই বোনের লাশ উদ্ধারের আগের দিন তাদের মা ওয়াশিংটনের সৌদি আরবের দূতাবাস থেকে একটি ফোন কল পেয়েছিলেন। ওই ফোনে তাদের সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

নিউইয়র্কের সৌদি কনস্যুলেট জেনারেল এক বিবৃতিতে জানায়, দূতাবাসের কর্মকর্তারা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং দুই বোন তার ভাইয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনে ছিল। তাদের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।

সৌদি আরবের রাজতন্ত্রবিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যা নিয়ে রিয়াদ তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকার সময়েই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী দুই সৌদি বোনের এ মৃত্যুর খবর এলো।

পুলিশ বুধবার দুই বোনের ছবি প্রকাশ করেছে এবং তাদের ব্যাপারে তথ্য জানানোর জন্য জনগণের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

আসলেই কী ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্কের গোয়েন্দাপ্রধান ডার্মোট শেয়া।

তিনি বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা, তা আমরা জানি না। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে আমরা ব্যাপক সমস্যার মধ্যে রয়েছি।

Share Button