নিজস্ব সংবাদাতা॥

চাঁদপুর মতলব দক্ষিন উপজেলার ৬নং দক্ষিন উপাদী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ঘোড়াধারী গ্রামের খান বাড়িতে সম্পত্তিগত বিরোধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট সহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আহতরা জানান।
জানাযায় গতকাল শুক্রবার ঘোড়াধারী গ্রামের খান বাড়িতে ভোড় ৬টায় মৃত আবদুর রব খানের ছেলে মোঃ জসিম খানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জসিম ষ্টোরে একই বাড়ির বাখরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ নুরে আলম মাস্টার, তুফে আলম, ইকবাল খান, মিলন খান, তকদির খান, কাউসার খান সহ আরো ৮/১০ জন ভাড়া করা সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে জসিম ষ্টোরের থাকা মালামাল লুট করে ভাঙচুর করতে শুরু করে। তাদেরকে প্রথমে জসিমের বৃদ্ধ মা মরিয়মন্নেছা বাধা প্রদান করতে গেলে তাকে মারধর করে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। খবর পেয়ে মোঃ জসিম খান ও তার স্ত্রী জায়েদা বেগম, তার ভাই মোঃ মাহফুজ খান, মোঃ রবিউল খান ছুটে গিয়ে তাদের মাকে উদ্ধার করে ও তাদের বাধা প্রদান করলে তাদেরকের হাতুরি ও বাঁশ দিয়ে মারধর করে মারাত্মক জখম করে মোঃ নুরে আলম মাস্টার, তুফে আলম গংরা। এলাকার লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মতলব দক্ষিন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী পার্শ্ববর্তী বাড়ির মোঃ আলমগীর বকাউল, ব্যবসায়ী সেলিম তপাদার, পল্লী চিকিৎসক আলমগীর বেপারী ও কৃষক হেলাল বেপারী জানায় যে এই সম্পত্তিটি জসিমের বাবা মৃত আবদুর রব খান ক্রয় করে ও জসিম ও তার ভাইয়েরা পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বসাবাস করে আসতেছে। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ নুরে আলম মাস্টারা এই সম্পত্তি তাদের বলে দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কয়েকবার সমাধানের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কোন বনিবনা না থাকায় সমাধান করা সম্ভব হয়নি। আজকের ঘটনাটি তারা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে।
এবিষয়ে নুরে আলম মাস্টারের চাচাতো ভাই তুপে আলম জানায় গত ৩০ বছর যাবৎ তাদের সম্পত্তি জোর করে জসিম ও তার পরিবার ভোগদখল করে আসছে।
ই্উপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম মোস্তফা প্রধানিয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই মহুর্তে তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন, এলাকায় গিয়ে তিনি উভয়পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। ইউপি সদস্য মোঃ মফিজুল ইসলাম বাবুর সাথে কথা বললে তিনি জানায়, উভয় পক্ষকে কয়েক বসার জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও নুরে আলম মাস্টাররা এবিষয়ে কোন কর্নপাত করেনি।
এদিকে এই ঘটনায় আহত মোঃ জসিম খানের ছোট ভাই মোঃ রবিউল খান বাদি হয়ে মতলব দক্ষিন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মতলব দক্ষিন থানার সাব ইন্সপেক্টর জহির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও আগামী রবিবার উভয় পক্ষকে থানার আসার জন্য বলেন।

ক্যাপশনঃ মতলব দক্ষিনে ঘোড়াধারীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও আহত জসিমের ছবি।

Share Button