মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ॥
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব হাটিলা ইউনিয়নে রাতের আধারে দূর্বৃত্তদের দেয়া নেশা জাতীয় দ্রব্যে অজ্ঞান হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত হয়েছেন গৃহবধু নাসরিন আক্তার রেবা (২০)। নিহত নাসরিন আকতার রেবা চলতি বছর হাজীগঞ্জ সরকারী মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

একই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিহতের ছোট বোন টঙ্গীরপাড় হাটিলা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী আইরিন আক্তার রেখা (১৪)। তবে বিষয়টি নেশা নাকি ধর্ষণ করা হয়েছে এমন দ্বি-মূখী বক্তব্যে এলাকায় ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের বাড়ীতে এখন শোকের মাতম চলছে।

গত মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব হাটিলা ইউনিয়নের পূর্ব হাটিলা গ্রামের বেপারী বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাসরিন ও আইরিন ওই বাড়ীর দুবাই প্রবাসী আব্দুর রহিমের কন্যা। নাসরিন বিবাহিত। সে চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের মনিহার গ্রামের দুবাই প্রবাসী হযরত আলীর স্ত্রী। ৬ মাস পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। এঘটনার পর নিহতের পিতা ও স্বামী উভয় দুবাই থেকে দেশে এসেছেন।

নিহতের প্রতিবেশী ফেরদৌসি আক্তার মিনু জানান, ঘটনার রাতে নাসরিন ও আইরিন ওই ঘরে ছিলেন। তাদের মা নিলুফা ইয়াছমিন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছিলেন। হঠাৎ ওই ঘর থেকে চিৎকারের আওয়াজ শুনা গেলে, তাদের ঘরে যাই। কিছুক্ষণ পর আইরিন ঘরের পেছনের দরজা খুলেদেন ঘরে প্রবেশ করে দেখি রেবা খাটের উপর অচেতন হয়ে পড়ে আছে, ছোট বোন রেখাও দরজা খুলে ঘরের মধ্যে ঘুরে পড়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এ সময় ঘরের সমানের দরজা খোলা ছিল। তাৎক্ষনিক তাদেরকে উদ্ধার করে বাড়ীর লোকজনসহ প্রথমে হাজীগঞ্জ বিসমিল্লাহ হসপিটালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা পরবর্তীতে কুমিল্লা সিডি প্যাথ হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুইজনেরই চিকিৎসা চলে কিন্তু বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় নাসরিন নিহত হয়।

ফেরদৌসি আক্তার আরো জানান, রাতেই কুমিল্লা থেকে নিহত নাসরিন ও আইরিনকে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়।

বেপরী বাড়ীর মাসুদ হোসেন জানান, আমি ঘটনার পর পরই ৩/৪জনকে পালিয়ে যেতে দেখেছি। তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

অপরদিকে শুক্রবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঘটনার খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ এ বিষয়ে বাড়ীর লোকজনের সাথে কথা বলেছে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

দু’বোনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রধানকারী বিসমিল্লাহ মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার প্রজ্ঞা পারমিতা কুন্ডু ও ডাক্তার মানব পাল চৌধুরী জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাদেরকে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তবে বড় বোন রেবার গালায় ও বুকে নখের আঁচড় রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে ধর্ষনের চেষ্টা করা হয়েছিল।

নিহতের স্বামী হযরত আলী জানান, ঘটনাটি আসলে কি ঘটেছে এখনো বুঝতে পারছিনা। তবে ময়নাতদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত জানাগেলে ব্যবস্থা মামলা করা হবে।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, নিহতের ঘটনাটি রহস্যজনক। স্থানীয়রা এটিকে ধর্ষণ বললেও হসপিটালের পরীক্ষা-নিরাক্ষায় এমন কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তবে কুমিল্লা সিডি প্যাথ হসপিটালে নিহত নাসরিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারাগেছেন বলে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ তাদের রিপোর্টে উল্লেখে করেছেন।

তিনি আরো জানান লাশের সুরতহাল করে দেখাগেছে নিহত নাসরিনের গলায় নখের আচড়ের দাগ রয়েছে। তবে বিষয়টি আমরা আরো গভীরভাবে তদন্তর করার জন্য নাসরিনের মরদেহ বিকেলে চাঁদপুর মর্গে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে।

Share Button