অনলাইন ডেস্ক:

জিম্বাবুয়ে সিরিজের বাংলাদেশ ওয়ানডে দল দেখে সৌম্য সরকারের মনটা খারাপ হওয়ারই কথা। এশিয়া কাপে তাঁর প্রয়োজনীয়তা এতটাই অনুভব হলো টিম ম্যানেজমেন্টের, ২৪ ঘণ্টার নোটিশে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে তাঁকে উড়িয়ে নেওয়া হলো আরব আমিরাতে। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে মূল্যবান ৩৩ রান করা সেই সৌম্যকে আবার রাখাই হলো না দেশের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। বাঁহাতি ওপেনারকে বাদ দেওয়া হলেও রেখে দেওয়া হয়েছে এশিয়া কাপে ৩ ম্যাচে ২০ রান করা নাজমুল হোসেন শান্তকে।

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নটা এসে যাচ্ছে, ছন্দে নেই এ যুক্তিতে যদি সৌম্য বাদ হন, একই যুক্তি কি নাজমুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়? নির্বাচক হাবিবুল বাশার অবশ্য এ প্রশ্নের যৌক্তিকতাই দেখেন না, ‘কেন যুক্তি নেই, আমাদের ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। তিনটা ম্যাচ দেখে যদি একজন খেলোয়াড়কে বাদ দিই তাহলে (খেলোয়াড় তৈরির) প্রক্রিয়াটা শেষ হবে না। ওকে (নাজমুল) আরেকটা সুযোগ দেওয়া উচিত। আজকের প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় সাকিব-তামিম-মুশফিককেও এভাবে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ক্যারিয়ার শুরুতে এসেই সবাই ভালো খেলে না। একটা খেলোয়াড়ের পেছনে আমরা অনেক বিনিয়োগ করি, তাই না? জাতীয় লিগের গত পর্বেও সে সেঞ্চুরি (১৭৩) করেছে। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রান করেছে। এইচপিতে রান করেছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে রান করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাকে তৈরি হতে আরেকটা সুযোগ দেওয়া দরকার।’

সৌম্যকে হঠাৎ এশিয়া কাপে নেওয়া হলো আবার মাত্র দুটি ম্যাচ দেখেই ছুড়ে ফেলা হলো। আর পারফরম্যান্সের বিচারে সৌম্য নিশ্চয়ই নাজমুলের চেয়ে বেশি খারাপ করেননি! হাবিবুলের ব্যাখ্যা হচ্ছে, ‘সৌম্য অনেক দিন ধরে খেলেছে। খেলোয়াড় হিসেবে সে তৈরি কিন্তু ছন্দে নেই। সেখানে শান্তকে (নাজমুল) আমাদের তৈরি করতে হবে। শান্ত-রাব্বী (ফজলে) এ ধরনের খেলোয়াড়দের সময় দিয়ে তৈরি করতে হবে। সৌম্য ছন্দে ফিরলে আবার দলে চলে আসবে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আমরা সবাই ভালো খেলোয়াড় চাই। কিন্তু ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরিতে কেন যেন পর্যাপ্ত সময় দিতে চাই না। যথেষ্ট ক্রিকেট না খেললে বুঝতে পারব না সে কতটা তৈরি। সাকিব এত বড় খেলোয়াড় হবে, সেটা শুরুতে কেউ চিন্তা করেনি।’

কদিন আগে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল) খেলতে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) চেয়েছিলেন সৌম্য। কিন্তু সেটি তাঁকে দেওয়া হয়নি। এনওসি না দেওয়ার ব্যাখ্যায় বিসিবি তখন বলেছে, জাতীয় দলের ব্যস্ততার কথা ভেবেই মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে সৌম্যকে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে দেওয়া হচ্ছে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মিঠুনের জায়গা হলেও সৌম্যর সুযোগ হয়নি। বাঁ হাতি ওপেনারকে রাখাই যখন হবে না, এপিএল খেলতে দিতে অসুবিধা ছিল কোথায়?

হাবিবুলের যুক্তিটা অবশ্য সৌম্যর মনে ধরার কথা, ‘ছন্দে ফিরতে চার দিনের ম্যাচ খেলা গুরুত্বপূর্ণ না কি টি-টোয়েন্টি? প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেশি ব্যাটিং করা যায় না কি ২০ ওভারে? প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আপনি চাইলে দুই দিনও ব্যাটিং করতে পারবেন। লিটন দাস ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। ২০ ওভারের ম্যাচে যেটি করা যায় না। টি-টোয়েন্টির চেয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রান পেলে সেটি বেশি আত্মবিশ্বাস দেয়। টি-টোয়েন্টিতে প্রতি ম্যাচে ভালো করতে পারবেন না। কিন্তু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভালো করতে আপনি যথেষ্ট সময় পাবেন । হ্যাঁ, প্রথম শ্রেণির চেয়ে আপনি টি-টোয়েন্টিতে টাকা বেশি পাবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে প্রথম শ্রেণিতে খেলা একটা খেলোয়াড়ের জন্য বিনিয়োগ। ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার সবচেয়ে সেরা সংস্করণ হচ্ছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। তাসকিন (আহমেদ) এপিএল খেলতে গেল, আবার চলে এল। যদি সে এপিএলে দুটি ম্যাচও খেলত, সর্বোচ্চ ৮ ওভার বোলিং করত। ওর সমস্যা ছিল ফিটনেসে। সে যদি জাতীয় লিগে দুটি ম্যাচ খেলত, তবে ফর্ম ও ফিটনেস সবই ফিরে পেত।’

Share Button