অনলাইন ডেস্ক:

৮ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর মুন সিনেমা হলের মালিককে ৯৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে এ অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে এ টাকা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দিতে বলেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগে আজ সোমবার এ তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক।

অন্যদিকে মুন সিনেমা হলের মালিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি ও সাইফুল্লাহ মামুন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান সরকার কোনো সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না বলে ফরমান জারি করে। এতে মুন সিনেমা হলের সম্পত্তিও এর আওতায় পড়ে যায়।

২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় দেন।

সেই রায়ে খন্দকার মোশতাক আহমদ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ সংবিধানবহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়।

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দেয়া ওই রায় বহাল রাখেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে মুন সিনেমা হল ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে ফেরত দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্রসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

এর পর গত ১৮ জানুয়ারি ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্ক লিমিটেডকে তিন কিস্তিতে ৯৯ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

আদেশ অনুসারে, প্রথম দুই মাসের মধ্যে ২৫ কোটি, দ্বিতীয় দুই মাসের মধ্যে ২৫ কোটি এবং অবশিষ্ট ৪৯ কোটি টাকা চলতি বছরের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে বলা হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্রের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।

এর পর ১ জুলাই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে মৌখিকভাবে দ্রুত অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মুন সিনেমা হলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি।

এর পর দীর্ঘদিনেও মালিকানা ফিরে না পেয়ে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইতালিয়ান মার্বেল কর্তৃপক্ষ তৎকালীন ভূমি সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল করে।

ওই অভিযোগের শুনানি করেই আপিল বিভাগ সিনেমা হলের জমি, স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দিয়ে সম্পত্তির মূল্য ৯৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

Share Button