নতুনেরডাক অনলাইন:
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গেঁটেবাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তার বাম হাতটা বাঁকা হয়ে গেছে। হাত ঝিমঝিম করে। তার ঘাড়ে ও কোমরে ব্যথা রয়েছে।  এছাড়া ডায়াবেটিসসহ কিছু রোগ অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে আয়োজিত প্রেসবিফ্রিংয়ে এমন তথ্য জানান খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবদুল জলিল চৌধুরী।

আবদুল জলিল চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার সুষ্ঠু চিকিৎসায় যে উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা করার আগে হার্ট, কিডনি, লাংসহ বেশকিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

আদালতের নির্দেশে গত শনিবার বিকেলে খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাকে হাসপাতালের ভিআইপি ডিলাক্স ৬১১ নম্বর কেবিনে রাখা হয়েছে। ওইদিনেই কর্তৃপক্ষ একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছেন।

মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন চিকিৎসক ডা. এম এ জলিল (মেডিসিন) ও সহকারী অধ্যাপক ডা. বদরুন্নেসা, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক (নিউমটোলিজ), অধ্যাপক সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি (কার্ডিওলজি), অধ্যাপক নকুল কুমার দত্ত (অর্থোপেডিক্স)। এর মধ্যে সজল ব্যানার্জি ঢাকার বাইরে রয়েছেন। তিনি ফিরে না আসা পর্যন্ত আরেকজন চিকিৎসককে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর উচ্চ আদালত বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করাতে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন। ইউনাইটেড বা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া রিট করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন।

Share Button