নতুনেরডাক অনলাইন :

সম্প্রতি ‘গ্রিন টি’ নামে আমদানি হওয়া নতুন মাদক ‘খাত’ বা ‘এনপিএস’কে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। ঢাকার তেজগাঁওয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংস্থার মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘খাত’ বা এনপিএস একটি ভয়াবহ মাদক। বিশ্বব্যাপী মাদকের তালিকায় এনপিএস বা খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই খাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে সরকার।

ডিজি বলেন, এনপিএস আমদানি-রফতানিতে ২০-২২ জনের একটি চেইন আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। বৈধতার লাইসেন্স থাকার পরও কেন বারগুলোয় হানা দেওয়া হচ্ছে? জানতে চাইলে ডিজি বলেন, বারের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শর্ত হচ্ছে বারটির মদ সংগ্রহের স্থান ও কী পরিমাণ সংগ্রহ করছে, এগুলো নিয়মিত জানাতে হবে। এ ধরনের অভিযানকে মনিটরিং বলা যেতে পারে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আইনটি তৈরির যেসব মাদকের তালিকা দিয়েছিলাম, আইনে সেগুলোই থাকছে। কোনোটি পরিবর্তন করা হয়নি। এ ছাড়াও একটি আইনের ধারা যুক্ত হচ্ছে, যেখানে অধিদফতরকে যেকোনো মাদককে নিষিদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তবে আইনে অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। যদি সরকার মনে করে, অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন, তাহলে যেকোনো সময় আমাদের সেই ক্ষমতা দেওয়া হবে।

মাদকের গডফাদারদের আইনের আওতায় না আনার সীমাবদ্ধতা কোথায়? সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, নতুন আইনটি পাস হলে আমরা খুব সহজেই গডফাদার, রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে পারব। অধিদফতরের কোনো মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে এক শতাংশ দুর্বলতা নেই। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, আমরা সেটি বাস্তবায়নেই কাজ করব।

তাৎক্ষণিক বিচারকার্য পরিচালনার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ইতোমধ্যে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পেয়েছে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, দুজন ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখনো কাজ শুরু না করলেও শিগগিরই মাঠে নামবেন তারা। তাদের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং এটা অধিদফতরের একটা বড় পরিবর্তন।

চলতি মাসের ৪ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত আগারগাঁওয়ের উন্নয়ন মেলায় অংশ নেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এ বিষয়ে জামালউদ্দীন বলেন, মেলা উপলক্ষে প্রতি জেলায় মাদকবিরোধী প্রচারণা চলবে। এ ছাড়া ঢাকার স্টলে মাদক নিরাময়ের পরামর্শ, লাইসেন্সের আবেদনের মতো সেবা দেওয়া হবে। যে কেউ স্টল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

মাদক নিয়ন্ত্রণে অধিদফতরের সাফল্য তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, অধিদফতর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩০ হাজার ৮৯৭টি অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৯৩৪ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ৮৪০৬টি মামলা করেছে।

এ ছাড়া গত ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পরিচালিত বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে সারা দেশে ৬০৩ জন আসামির বিরুদ্ধে ৫৫৯টি মামলা করা হয়েছে। ডিজি বলেন, কক্সবাজারে পরিচালিত টাস্কফোর্সের অভিযানে তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়িতে হানা দেওয়া হয়েছে। অভিযানে মাদক কারবারিদের ভিত নড়বড়ে হয়েছে।

Share Button