নতুনেরডাক অনলাইন :

দেশীয় উৎপাদন না বাড়ালে হোম এ্যাপ্লায়েন্স বা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য আমদানি করছে সেসব দেশের উৎপাদন খরচ ব্যাপক বেড়ে যাওয়ার বাস্তবতায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। একটা সময় টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য পুরোটাই ছিলো আমদানি নির্ভর। এখন এসব পণ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানি করা হয়। বাকিটা তৈরি হচ্ছে দেশেই।

গত দুই দশকের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যতই দিন যাচ্ছে ততই কমে যাচ্ছে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় উৎপাদন বাড়লে এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে এর উল্টোচিত্র দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। অতিসম্প্রতি চায়না, মালয়েশিয়া, জাপান, কোরিয়া এসব দেশে ব্যাপকভাবে শ্রমের মূল্য বেড়ে গেছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে এসব দেশ থেকে আমদানি করা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দামও অনেক বেড়ে যাবে।

ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এক সময় আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, ইতালি, কোরিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে বাংলাদেশে টিভি, ফ্রিজসহ হোম এ্যাপ্লায়েন্স আসতো। কিন্তু ওই সব দেশে শ্রমমূল্য এবং পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সেসব পণ্য এখন বাংলাদেশের ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এখন চায়না, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এসব দেশ থেকেই পণ্য আসছে বেশি। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে এসব দেশেও শ্রমমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। যার প্রভাবে বাংলাদেশে বাড়বে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম। ওয়ালটন গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

এ ব্যাপারে আর বি গ্রুপের প্রকৌশলী আশরাফুল আম্বিয়া জানান, পণ্য তৈরি ও বিপণনের পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে তারা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজার নিয়ে গবেষণা করছেন। যাতে ওয়ারহেড কস্ট কমে আসে। ফলে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়লেও ওয়ালটন পণ্যের দাম কমে আসবে। বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানি করা হয়। আর ৬০ শতাংশ তৈরি করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান।

আরেক দেশীয় ব্র্যান্ড মার্সেল-এর প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন রাজীব জানান, অনেক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে হটিয়ে তারা দেশের বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষস্থান পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্ল্যাটিনাম টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, উৎপাদন বাড়াতে না পারলে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এদেশের আবহাওয়া, বিদ্যুৎ সমস্যা, মানুষের চাহিদা, ক্রয় ক্ষমতা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে উচ্চ মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করছে। ফলে বিদেশী ব্র্যান্ডগুলো পিছিয়ে পড়ছে। ভোক্তারাও বর্তমানে দেশীয় পণ্য বেশি কিনছে। ফলে আমদানি করা পণ্যের মূল্য বাড়লেও তারা কম দামে দেশীয় পণ্য কিনতে পারবেন। এটা প্রকারান্তরে দেশের জন্যই শুভ লক্ষণ।

Share Button