কামরুজ্জামান হারুন॥
সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভুমি আমাদের গ্রাম বাংলা। আউশ ধানের মৌ মৌ গন্দ্বে কৃষান কৃষাণীর মন ভরে গেছে। যেন সোনালী ধানে সোনালী হাসি। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প। প্রকল্পের আউশের মৌসুমে কৃষান কৃষানীরা আউশ ধান কাটা ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
সেচ প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে সোনালী হাসি। মতলব উওর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,এ বছর আউশ ধানের মৌসুমে ৩ হাজার ১ শত ৫৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্রি-২৬,২৭,২৮,৪৩,৪৮ বিআর-১৪,নেরিকা নিউটেন।
এ ছাড়া ও স্থানীয় জাতের ধান রোপন করা হয়েছে। সরেজমিন মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের রুহিতার পাড়,তালতলি, দুলাল কান্দি, ওটারচর, খাগকান্দা, বৈদ্যনাথ পুর ও গজরা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুরোদমে পাকা ধান কাটা ও মাড়াই কাজে কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
তালতলি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর সরদার (৪৮) জানান,তিনি ১৫০ শতক জমিতে আউশ ধান রোপন করেছেন।তিনি ধান পেয়েছেন ৭৫ মন। এতে তার উৎপাদন খরচ পড়েছে ৩০ হাজার টাকা।
খাগকান্দা গ্রামের শাহজালাল মাষ্টার (৬৮) জানান,তিনি ৪২ শতক জমিতে আউশ ধান রোপন করেছন। এতে তার উৎপাদন খরচ পড়েছে ৭ হাজার টাকা।তিনি ধান পেয়েছেন ১৪ মন।
ওটারচর গ্রামের আবুল শিকদার (৪৬)জানান,তিনি ২৮ শতক জমিতে আউশ ধান করেছেন। তিনি ধান পেয়েছেন ১৪ মন।এতে তার উৎপাদন খরচ পড়েছে ৪ হাজার টাকা।
মতলব উওর উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র দাস জানান,সেচ প্রকল্পের আউশের মৌসুমে ২ শত ৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছিল।তন্মধ্যে ২ শত হেক্টর উফসী এবং স্থানীয় জাত ৫ হেক্টর।
মতলব উওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো সালাউদ্দিন জানান, এ বছর আউশের মৌসুমে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ৯ হাজার ১ শত ৫৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। ফলন খুবই ভালো। আশা করা হচ্ছে বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এ মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ৯ হাজার ৫ শত মেট্রিক টন।আশা করা হচ্ছে এ মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে।

Share Button