গাজী মহিনউদ্দিন:
হাজীগঞ্জের অলিপুরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা ফেল ৭ বছরের শিশু আব্দুর রহমান। গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় উপজেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের পীর বাড়িতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে আলমগীর হোসেনের পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে একই বাড়ির মো. সাইফুজ্জামান পলাশের ছেলে। বৈদ্যুতিক তারের সাথে সংযুক্ত থাকা জিআই তারে শিশু আব্দুর রহমানের দুই পা জড়িয়ে যায়। এতে তার দুটি পায়ের উপরি অংশ পুড়ে যায়।
আব্দুর রহমানের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় বিদ্যালয় থেকে এসে ঘরের পাশের বাগানে খেলাধুলা করতে যায়। বাগানের উত্তর পাশে মরা মুরগির বাচ্চা দেখতে পেয়ে তা ধরতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়। আব্দুর রহমানের চিৎকারের শব্দ শুনতে পেয়ে পরিবারের লোকজন গিয়ে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পীর বাড়ির আলমগীর তার বসতঘর থেকে প্রায় ১শ গজ দূরে তার সম্পত্তির সীমান্তের শেষে গাছের সাথে বৈদ্যুতিক মাল্টিপ্লাগের মাধ্যমে জিআই তারের বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে থাকে এবং জিআই তারের সাথে একটি মরা মুরগি আটকে রাখে। শিশু আব্দুর রহমান খেলতে গিয়ে মরা মুরগিটি ধরতে গেলে বিদ্যুতায়িত হয়ে তার পায়ের উপরি অংশ পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমগীর তার মামা ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা এম এ হান্নান এর পরিচয় দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকে। তার অপকর্ম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মারমুখি আচরণ করে।
এ বিষয়ে আলমগীরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি কুকুর ও শিয়াল শিকার করার জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতেছি। আমার খামারের মুরগি কুকুর খেয়ে ফেলে তাই মানুষের পরামর্শে এ ফাঁদ তৈরি করেছি। আমার অগোচরে শিশুটি এ ফাঁদে পড়ে।
আব্দুর রহমানের পিতা সাইফুজ্জামান পলাশ বলেন, যেখানে আলমগীর ফাঁদ পেতে সেখানে তার কোন সম্পত্তি নেই। এ বাগানে আমার ছেলে সহ কয়েকটি শিশু খেলাধুলা করে। উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এ ফাঁদ পেতেছে। ভাগ্যবশত আমার ছেলেটি বেঁচে গেছে। পরিবারের লোকজন না দেখলে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটে যেত। এ বিষয়ে আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছি।

Share Button