চাঁদপুর সদর

দেখার কেউ নেই : নিন্মমানের পাথর আর ইটদিয়ে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন প্লাটফর্মের কাজ চলছে

শরীফুল ইসলাম:

নিন্মমানের পাথর আর ইটদিয়ে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন প্লাটফর্মের কাজ চলছে। চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে কোর্ট স্টেশন প্লাটফর্মের মেঝেতে একেবারেই নিম্নমানের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। যে সময়ে কাজ করার কথা ছিল সে সময়ে কাজ না করে পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার প্রাক্কালে স্থানীয় কয়েক যুবক ও রেলওয়ের খালাসি যৌথভাবে এই কাজ তড়িঘড়ি করে যাচ্ছেন। তাই অনেকে বলছেন, রেলওয়ের খালাসি সোলেমানই এখন ঠিকাদার। আবার তিনি মোবাইল রিচার্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। বড় স্টেশনে তিনি রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পিতার চাকুরির সুবাদে তিনি রেলওয়েতে খালাসির চাকুরি পেয়ে নিজেকে অনেক বড় মাপের অফিসারের হাবভাব দেখিয়ে চলেন। এ নিয়ে সাধারন যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রী ছবি তুলে ফেইসবুকে আপলোড করেছে।

চাঁদপুর বড় স্টেশন প্লাটফর্ম থেকে শুরু করে লাকসাম জংশন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার টেন্ডার পেয়েছেন চট্টগ্রামের কাশেম কনস্ট্রাকশন। এটি এক প্যাকেজের কাজ। ওই ফার্ম থেকে সোলেমান আরো ২/৪ জনকে সাথে নিয়ে চাঁদপুর শহরের কোর্ট স্টেশন প্লাটফর্মের দেয়াল ও ফ্লোর পুনঃসংস্কার কাজটি ১৩ লাখ টাকায় কিনে নিয়েছেন বলে রেলওয়ের একটি সূত্র থেকে জানা যায়। ওই কাজটির সাথে জড়িত সোলেমান ও আলমগীর নামে কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। চলমান কাজের মান এতোটাই নিম্নমানের যে, যেন পুকুর চুরির সমান। সিডিউলে যেভাবে কাজের ধরণ রয়েছে তার কিছুই করা হচ্ছে না। প্লাটফর্মের দক্ষিণ পাশে যে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে খুবই নিম্নমানের ইট দিয়ে গাঁথুনি দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ফ্লোর খোদাই করে যে ইট বের করা হয়েছে ওইসব ইট পরিষ্কার না করেই গাঁথুনিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে এই দেয়ালের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে রাজমিস্ত্রি কাজ করছেন তার সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, স্তূপ করা নিম্নমানের ইটগুলো কেনো আনা হয়েছে তা আমি জানি না।

জেলা শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি টিটিই মাহবুবুর রহমানের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, কাজের মান আমরাও দেখছি নিম্নমানের হচ্ছে। তবে সচেতন মহল এ ব্যাপারে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করলে ভালো হবে। রেলওয়ের খালাসি সোলেমানের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, ভালো কাজ করতে গেলে বদনামের ভাগ নিতে হয়। যেমন ভাত খেতে গেলে দু চারটি মাটিতে পড়ে। এক নাম্বার ইটের সাথে পিকেট থাকতে পারে। এ বলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। বালু মিশ্রণের কথা রয়েছে এক বস্তা সিমেন্টের সাথে ৬ টুকরি। কিন্তু মেশানো হচ্ছে এক বস্তা সিমেন্টের সাথে ১০/১২ টুকরি। যে ফ্লোর ভাঙ্গা হচ্ছে, সে স্থান থেকে কংক্রিট অপসারণ করে মাটি খুঁড়ে ডাম্পিং করে নিচু স্থান সমান করার কথা। তারপর রড বিছিয়ে ঢালাই দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এসব কিছুই করা হচ্ছে না। খালাসি সোলেমান সকাল হলে কোর্ট স্টেশনে এসে কাজের তদারকি করেন। দেখলে মনে হয় রেলওয়ের যেনো বড় কোনো কর্মকর্তা তিনি। নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করিয়ে থাকেন। কাজের মান সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কাশেম কনস্ট্রাকশনের কাজ এগুলো। আমরা রেলওয়েতে চাকুরি করি। আমাদের নির্দেশ দিলে কাজ দেখতে ঘটনাস্থলে আসি। অভিযোগ রয়েছে, সোলেমান নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বড় স্টেশনে রেলওয়ের জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তিনি রেলওয়ের বিভিন্ন কাজের তদারকির নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। খালাসি সোলেমানের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে।

Sharing is caring!

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares