মতলব উত্তর

তরুণীদের ঈদ ফ্যাশান
কদর বেশি লং কামিজ ও ফোর পার্ট কটির

মনিরুল ইসলাম মনির :
ফোর পার্ট কটি। সিল্ক, জর্জেট, মটকা ও কটন কাপড়ের ওপর দুই পার্টের পোশাকটিতে রয়েছে পাথর-জরি-চুমকি আর সুতার জমকালো কাজ। উপরের কটিতে ভিন্ন স্টোনের বোতাম আর নিচের ঘোরানো পার্টে সুতার নকশা। নিচের এক রঙের পার্টের সঙ্গে মিল রেখে উপরের পার্টে করা হয়েছে বাহারি রঙ। জামার সঙ্গে ম্যাচ করে চিকন পাড়ের ওড়না। সিল্ক ও জর্জেট কাপড় প্রাধান্য দিয়ে সব ধরনের কাপড়ের উপরে পুরো রাজকীয় আদলে তৈরি করা হয়েছে পোশাকটি। এবারের ঈদে এটি মন কেড়েছে ফ্যাশন প্রিয় তরুণীদের।
বিক্রেতারা জানান, পোশাকটি শুধু বড়দের জন্যই নয় থাকছে ছোটদের জন্যও। মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, গরমের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে একটু হালকা ও ভারি কাপড়ে করা হয়েছে ফোর পার্ট কটি। বড়দের এই পোশাকটি পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায়। আর ছোটদের জন্য ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।
কিছুদিন আগে লং গাউনের তেমন চল ছিল না। কিন্তু এ বছর থেকে লং কামিজ এবং গাউনের চল ফিরে এসেছে আবারো। গাউনের সঙ্গে হাফস্লিভ হাতাও বেশ চলছে। গাউন এবং লং কামিজ ছাড়াও তরুণীরা ঝুঁকছেন ‘বলিউড গাউন’ এর দিকে। এটি ‘ফ্লোর টাচ গাউন’। এ পোশাকটি মূলত পাশ্চাত্য ঢঙের। তবে ডিজাইনে কিছুটা পরিবর্তন ও পোশাকের সামনের দিকে জমকালো কারুকাজ দিয়ে একে ভারতীয় ঘরানার করা হয়েছে। আর বলিউড গাউনের বড় বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে লম্বা ঝুল। অতিরিক্ত ঝুলের কারণে পোশাকের নিচের দিকের অনেকাংশ মাটিতে ছড়িয়ে থাকে। এ কারণেই এর আরেক নাম ফ্লোর টাচ গাউন। এটি পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে।
বিপণি বিতানগুলোতে আরেকটি পোশাক তরুণীদের মন কেড়েছে, সেটি হলো লাছা। নামটা পুরনো হলেও ঢং-টা একেবারেই নতুন। জর্জেট কাপড়ের উপর লং ঘোরানো জামাতে পুরোটাই জরি সুতার কাজ। সঙ্গে রয়েছে পালাজো ও গর্জিয়াস ওড়না। গতবার লাছায় লিলেন কাপড়ের প্রাধান্য বেশি থাকলেও এবার ব্যবহার করা হয়েছে জর্জেট ও বাহারি নেটের কাপড়।
দোকানিরা জানালেন, গরমের কথা মনে রেখেই কামিজে সুতি, লিলেন, সিল্ক, অ্যান্ডি কটন, অ্যান্ডি সিল্ক, হাফসিল্ক, মসলিন কাপড় বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে একটু বেশি গর্জিয়াস করতে টিস্যু, সিল্ক ও জর্জেট কাপড়ে কারচুপি ও জারদৌসির ডিজাইন আর উজ্জ্বল রঙকে প্রাধান্য দিয়ে চুমকি, পাথর ও উজ্জ্বল সুতার কাজ করা হয়েছে। সুতি আর লিলেন কাপড়ের উপরে ঝুল হাতার ম্যাগী সেটও নজর কাড়ছে ক্রেতাদের।
গাউন লাছার পাশাপশি লং কামিজেরও বেশ চাহিদা এবার। কামিজের লেন্থ ও ঘের কিছুটা বেড়েছে। গুরুত্ব পেয়েছে ঘেরে চারকোনা রাউন্ড কাট। কামিজের ঝুল পেছনে বেশি এবং সামনে কম। এ ছাড়া কামিজের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে লং কটি, যা লং কামিজের লুকে এনেছে নজরকাড়া পরিবর্তন। কোনো কোনো সিঙ্গেল কামিজের বুকে ছোট্ট একটা পকেট জুড়ে দেয়া। আর প্যাটার্নে পরিবর্তন আনতে ব্যবহার হয়েছে কাতান, প্যাচওয়ার্ক ও লেইস। পাশাপাশি বুকের অংশে মাঝখানে, দুই হাতার কনুইয়ের ওপরের অংশে হরেক রকম নকশাদার বাটন। লং কামিজের জমিনে ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, কারচুপি ও এমব্রয়ডারির কাজ থাকছে। কামিজের সামনের অংশে বরাবরই নানা নকশার কাজ ছিল। এবার ঈদের কামিজে গুরুত্ব দিয়ে পেছনের অংশেও এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট কিংবা পাথরের নকশা হয়েছে। কামিজে হাইনেক ও রিনেক গলার সঙ্গে বোর্ট, ভি, ভেনকলার যুক্ত হয়েছে। হাতা থ্রি-কোয়ার্টারই বেশি চলছে। তবে গরমের কথা মাথায় রেখে স্লিভলেসও বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে লং কামিজগুলো পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে।

Sharing is caring!

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares