অনলাইন ডেস্কঃ

জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট এ সভার আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়নি, দেশের গণতন্ত্রকে কারাগারে রাখা হয়েছে। সরকার উচ্চতর আদালতের ঘারে বন্দুক রেখে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দ জানাই। শুধু আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। কারণ বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে অন্যায়ভাবে তাকে ৫ বছরের সাজা দেয়া যেত না। তাই আমরা বিচার বিভাগ থেকে তার মুক্তি আর আশা করতে পারি না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলন করেই মুক্ত করতে হবে। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছি। একটা সময় ধৈর্যের সীমা থাকবে না। তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষ কঠিন থেকে কঠিনতম আন্দোলনে যাবে। এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

তিনি বলেন, আজকে যারা মনে করেন, বিএনপি গণজাগরণ সৃষ্টি করতে পারবে না, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, ছাত্রদের যে কোটা আন্দোলন হয়েছিল সেটা কারা করেছিল জানি না, তবে তিন দিন আগেও আমরা কেউ জানতাম না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমুলক হতে হবে, এই ইস্যু জনগণের ইস্যু। তাই আমি মনে করি, কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেভাবে আন্দোলন হয়েছিল, সেভাবে গণজোয়ারের সৃষ্টি হবে। সেটার জন্য কেউ নোটিস দেবে না, সময়ও কেউ বলে দেবে না। কোনো স্বৈরাচারই গণজাগরণের সামনে টিকতে পারেনি। আইউব খান, এরশাদ টিকতে পারে নাই। শেখ হাসিনাও টিকতে পারবে না।
এক এগারোর সরকার ঘোষণা দিয়ে মাইনাস টু বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। সেই কুশীলবরা এখনো সক্রিয় উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন বলেন, যারা মাইনাস টু’র পরিকল্পনা করেছিল তারা এখন একজনকে মাইনাস করতে চাচ্ছে। অর্থাৎ তখন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে চেয়েছিল। এখন তারাই শেখ হাসিনাকে দিয়ে খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে চায়। শেখ হাসিনার মাধ্যমে যারা খালেদা জিয়াকে মাইনাস করাতে চায়, তারা যদি খালেদা জিয়াইকে মাইনাস করাতে পারে, তাহলে তার কয়েকদিনের মধ্যে শেখ হাসিনাকেও মাইনাস করে দিবে।

শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্র থেকে আপনি পিছু হটেন। সরে আসেন, না হলে মাইনাস টু এর যে পরিকল্পনা ছিল তা বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। আপনি খালেদা জিয়াকে মাইনাস করবেন তা ভুলেও চিন্তা করবেন না।

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকবে আর একাদশ নির্বাচন হবে, এটা সম্ভব না। যারা মনে করে বিএনপি গণজাগরণ সৃষ্টি করতে পারবে না, তাদের বলতে চাই, ছাত্ররা যেভাবে আন্দোলন করেছে। মাত্র তিন দিনে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। তিন দিন আগে সাংবাদিকসহ গোয়েন্দারাও বুঝতে পারেনি কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। সময় আসছে, এই ধরনের গণজাগরণ সৃষ্টি হবে। সেটা কোনো নোটিস দিয়ে আসবে না। তাই বলছি, দেশে গণতন্ত্র নিয়ে আসুন, সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তা নাহলে গণজোয়ারে ভেসে যাবেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ এক সঙ্গে নির্বাচনে নেমেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আর তারাই বলছে, খুলনায় নাকি লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই। আসলে তারা পরিকল্পনা করেছে আগের দিন সিল মারার। এ দুঃসাহস করবেন না। জনস্রোতের বন্যায় ভেসে যাবেন। খুলনার জনগণ প্রস্তুত আছে। যেকোনো ধরনের ভোট ডাকাতি ঠেকাবে তারা। জনগণ এটা প্রতিহত করবে।

খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ঢাকা মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদের সহ-সভাপতি বাবু সুরঞ্জন ঘোষ প্রমুখ।

Share Button