নতুনেরডাক অনলাইন :

অবশেষে দেশে ফিরেছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ। আজ সোমবার বেলা ৪টায় নিহতদের লাশ নিয়ে শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি কার্গো বিমান।

বিমানবন্দরের ১ নম্বর ভিভিআইপি টারমাকে অবতরণ করেছে বিমানটি। এর আগে নেপালের স্থানীয় সময় ২টায় ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে লাশবাহী ৬১-২৬৪০ নম্বর বিমানটি। এর কিছুক্ষণ আগে নিহতদের স্বজনদের নিয়ে ইউএস-বাংলার আরেকটি বিমান ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

এর আগে আজ সকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দর থেকে মরদেহের কফিনগুলো সরাসরি আর্মি স্টেডিয়ামে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ।

আনুষ্ঠানিকভাবে নেপাল থেকে আসা মরদেহ গ্রহণের জন্য বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কিছুক্ষণ আগে সেখানে উপস্থিত হন সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও দুপুর থেকেই বিমানবন্দরে ও আর্মি স্টেডিয়ামে নিহতদের স্বজনরা ভিড় করতে শুরু করে।

তারও আগে আজ সকালে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। এরপর দূতাবাসের আঙ্গিনায় লাশের কফিনগুলো সারিবদ্ধ করে রাখা হয়। স

কাল ৯ টায় জানাজা শেষে নিহতদের নাম লেখা কফিনের পাশে স্বজনরা কিছুক্ষণ থাকার সুযোগ পান। সেখানে আপনজনের নাম লেখা কফিন দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। এরপর সোয়া ৯টার দিকে বিমানবন্দরে নেওয়ার জন্য গাড়িতে তোলা হয় কফিনগুলো।

নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা যায়, নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৩ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- বেগম হুরুন নাহার বিলকিস বানু, এস এম মাহমুদুর রহমান, ফয়সাল আহমেদ, বিলকিস আরা মিতু, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসা, মো. রফিকুজ্জামান, সানজিদা হক, অনিরুদ্ধ জামান, মো. হাসান ইমাম, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, তাহারা তানভীন শশী রেজা, ফ্লাইটের পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশীদ ও মিনহাজ বিন নাসির, আঁখি মনি, এফ এইচ প্রিয়ক, শারমীন আক্তার নাবিলা, উম্মে সালামা, মো. মতিউর রহমান, খাজা হুসাইন ও মো. নুরুজ্জামান।

নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৩ জনের মরদেহ শনাক্ত করা যায় নি। তারা হলেন- আলিফউজ্জামান, পিয়াস রায় ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

এদিকে গতকাল রোববার পর্যন্ত এই ঘটনায় আহত ১০ বাংলাদেশির মধ্যে ৬ জন দেশে ফিরেছেন। তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। তারা হলেন- শাহরিন আহমেদ মুমু, মেহেদী হাসান, সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা, আলমুন নাহার অ্যানি, রাশেদ রুবায়েত ও শাহিন ব্যাপারী। বাকি চার জন সিঙ্গাপুর, নেপাল ও ভারতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রসঙ্গত গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনায় ৪৯ আরোহীর মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে ৪ পাইলট-ক্রুসহ ২৬ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ২৩ জনকে শনাক্ত করে আজ দেশে নিয়ে আসা হয়

– প্রতিদিনের সংবাদ

Share Button