হাজীগঞ্জ

হাজীগঞ্জে স্ত্রী হত্যায় ঘাতক স্বামী আটক, পুকুর থেকে ছুরি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কুমিল্লা থেকে স্ত্রী হত্যাকারী আসামী হাসান সর্দারকে আটক করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।

একই দিন জিজ্ঞাসাবাদে হাসান স্ত্রী হত্যার কথা শিকার করে ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও স্ত্রী‘র ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। আর এই বিষয়গুলো নতুনেরডাককে মঙ্গলবার রাতে মুঠোফোনে  নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাং জাবেদুল ইসলাম।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতের কোন এক সময় নিজ স্ত্রী সাহিদা আক্তার মুক্তাকে হত্যা করে রাতেই পালিয়ে যায় হাসান সর্দার।

এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের ভাই রাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ৪ নং কালোচোঁ দক্ষিন ইউনিয়নের সৈয়দপুর সর্দার বাড়িতে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই হাসান সর্দার বার বার অবস্থান পরিবর্তন করে অবস্থান করে আসছে এমন অভিযোগ পুলিশের কাছে আসে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম বাসষ্টান্ডে অভিযান চালায়।

উক্ত স্থানের ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাসষ্টান্ড সংলগ্ন একটি অংশে চেকপোষ্ট বসায় পুলিশ। এ সময় নির্দিষ্ট একটি বাসে অভিযান চালিয়ে হাসান সর্দারকে আটক করে হাজীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাং জাবেদুল ইসলাম নতুনেরডাককে জানান, হাসানকে প্রাথমিকভাবে স্ত্রী হত্যার কথা শিকার করেছে। এ সময় হাসানের শিকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ির পুকুর থেকে মুক্তা হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি মঙ্গলবার দুপুরে উদ্ধার করা হয়(ঐ পুকুর থেকে মুক্তার লাশ উদ্ধার করা হয়)। এর পরেই মুক্তা‘র ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ফরিদগঞ্জে নিয়ে যে লোকের কাছে হাসান বিক্রি করে সেই লোক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য উপজেলার কালোচোঁ দক্ষিন ইউনিয়নের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির হাসান সর্দার পাশর্^বর্তী বাড়ির সাহিদা আক্তার মুক্তাকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করে প্রায় ১৭ বছর পূর্বে। তিন কন্যা সন্তানের জনক হাসান এমনিতে মাদকাসক্ত ও বহুবিবাহে আসক্ত ছিলো বরাবর। স্ত্রী সন্তানদের খোঁজখবর রাখতো না কখনো। মাঝে মধ্যে বাড়িতে এসে স্ত্রীকে মারধর করে ঘরের জিনিস পত্র নিয়ে পালিয়ে যেতো। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে নিজ স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে যায় হাসান সর্দার।

শুক্রবার ভোরে স্ত্রী সাহিদা আক্তার মুক্তাকে (৩৫) নামের এক নারীর লাশ পুকুরের পানি থেকে উদ্ধার করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে ঐ নারীর  স্বামী হাছান সর্দার (৪০) পলাতক রয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর ২শ শষ্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের বড় ভাই সোহাগ মজুমদার বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্ততি নিচ্ছে।  নিহত মুক্তা তিন কন্যা সন্তানের জননী। ঘটনাটি ঘটে জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলা ৪ কলোচোঁ দক্ষিন ইউনিয়নের সৈয়দপুর সর্দার বাড়িতে।

হাছান সর্দার বাড়ির মৃত নুরুল ইসলাম সর্দারের ছেলে আর মুক্তা পাশ^বর্তী মনসুর আহম্মমের মেয়ে। প্রায় ১৭ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।

নিহত মুক্তার বড় ভাই সোহাগ মজুমদার জানান, বহু বিবাহে আসক্ত হাছান সবসময় মুক্তার উপর অত্যাচার করতো। এ নিয়ে বহুবার স্থানীয়ভাবে শালিশ করা হয়েছে কিন্তু কোনভাবেই হাছান ভালো পথে আসেনি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে সে হঠাৎ করে বাড়িতে এসে আমার বোনকে খুন করে পালিয়ে যায়।

ভোরবেলা বড় ভাগনি হামিমা আমাকে ফোনে জানান, কাল রাতে মায়ের সাথে বাবার ঝড়গা হয়েছে। ভোর থেকে বাবা-মা কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আমি খোঁজ খরব নেয়া শুরু করলে বাড়ি থেকে খবর আসে বোনের লাশ পুকুরের পানিতে ভাসছে।

Sharing is caring!

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares